বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন

গড়ে দুই টুকরো রুটি খেয়ে বেঁচে আছে গাজাবাসী: জাতিসংঘ

ডেইলী বেঙ্গল গেজেট রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৩ ১২:৪৯ pm

তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইসরাইলের নির্বিচার বোমা হামলায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায়। সেখানে খাবার, পানি ও ওষুধের তীব্র সংকট চলছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইসরাইলের সর্বাত্মক অবরোধের কারণে আটার তৈরি মাত্র দুই টুকরো পাউরুটি খেয়ে গাজাবাসীরা বেঁচে আছেন।

জাতিসংঘের বরাত দিয়ে শনিবার (৪ নভেম্বর) টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অবরুদ্ধ গাজায় খাবার, পানি এবং জ্বালানির সীমিত মজুত এবং ইসরাইলি অবরোধে চরম মানবেতর সময় কাটছে গাজাবাসীর। অসহায় গাজাবাসী এখন পানির অভাবে চিৎকার করে কাঁদছে। বিভিন্ন দেশ থেকে ত্রাণ সহায়তা পেলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা একেবারেই অপর্যাপ্ত।

জাতিসংঘের রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্কস এজেন্সি ফর প্যালেস্টিনিয়ান রিফিউজিসের (ইউএনআরডব্লিউএ) পরিচালক থমাস হোয়াইট বলেন, টানা ২৯ দিন ধরে ইসরাইলের নির্বিচারে বোমা হামলায় গাজা উপত্যকা এখন মৃত্যুপুরী। গাজার কোনো জায়গাই নিরাপদ নয়।

এক ভিডিও ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য দেশের কূটনীতিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) ১৭ লাখ গাজাবাসীকে রুটির যোগানের লক্ষ্যে প্রায় ৮৯টি বেকারিকে সহায়তা দিচ্ছে। এখন এই অঞ্চলের মানুষরা রুটির বদলে একটু পানির খোঁজে আছেন।

জাতিসংঘের ডেপুটি মিডইস্ট সমন্বয়কারী লিন হেস্টিংস, যিনি ফিলিস্তিনি অঞ্চলগুলির জন্য মানবিক সমন্বয়কারীও, বলেছেন ইসরায়েল থেকে তিনটি জল সরবরাহ লাইনের মধ্যে মাত্র একটি চালু রয়েছে।

জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপ-সমন্বয়ক এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মানবিক সমন্বয়কারী লিন হেস্টিংস বলেন, ‘ইসরাইলের তিনটি পানি সরবরাহ লাইনের মধ্যে মাত্র একটি চালু আছে। তাই অনেকে লবণাক্ত বা লবণাক্ত ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার করছে।’

এদিকে জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক প্রধান মার্টিন গ্রিফিথস এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘গাজায় জ্বালানি প্রবেশের অনুমতির জন্য ইসরাইল, মিশর, যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘ কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং পানি ও বিদ্যুৎ বিতরণের জন্য জ্বালানি জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সমুদ্রে পাম্প করা হচ্ছে তবে নর্দমা শোধন করা হচ্ছে না। তাই একবার জ্বালানি পুরোপুরি ফুরিয়ে গেলে গাজার নর্দমা রাস্তায় প্রবাহিত হবে।’

ইউএনআরডব্লিউএ’র ১৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে গাজার প্রায় ছয় লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। এদের বেশিরভাগই স্কুল। কিন্তু গত ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার পর ইসরাইলের তীব্র স্থল ও বিমান হামলায় সংস্থাটি উত্তরা গাজার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

আরো

© All rights reserved © 2023-2024 dailybengalgazette

Developer Design Host BD