শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন

গাজায় বাস্তুচ্যুতির নতুন ঢেউ

ডেইলী বেঙ্গল গেজেট রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১০:৫০ pm

গাজার দক্ষিণাঞ্চল, বিশেষ করে খান ইউনিস শহরে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে ইসরায়েল। বিমান হামলার পাশাপাশি চালানো হচ্ছে স্থল অভিযান। খান ইউনিসের প্রধান প্রধান সড়কে ফিরছে ইসরায়েলের ট্যাঙ্ক। অব্যাহত হামলায় গাজায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ১৬ হাজার ২৪৮-এ পৌঁছেছে। এর মধ্যে সাত হাজারই শিশু। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরায়েলের হামলায় বুধবার আরও ৭৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১২৩ জন। মঙ্গলবার রাতে নুসেরাত শরণার্থী শিবিরে বিমান হামলা হয়েছে। এতে শিশুসহ ৯ জন নিহত হন।

গত ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েল প্রাথমিকভাবে উপত্যকার উত্তরাঞ্চলের গাজা সিটিকে লক্ষ্যে পরিণত করে। সম্প্রতি সাত দিনের যুদ্ধবিরতি শেষ হলে তারা দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে হামলা বাড়ায়। বিবিসি জানিয়েছে, বুধবার খান ইউনিসের জাবালিয়া ও সুজাইয়ার দিকে এগিয়েছে ইসরায়েলের ট্যাঙ্ক। এসব এলাকায় বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষের বাস। জাতিসংঘ বলছে, দক্ষিণ গাজার প্রায় ছয় লাখ মানুষকে সরে যেতে বলা হয়েছে। কিন্তু কার্যত তাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।

জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ বলছে, প্রতি মিনিটে গাজায় পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। ইসরায়েলের ট্যাঙ্কের গোলা থেকে প্রাণ বাঁচাতে লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছেন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে অব্যাহত হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গাজায় আরেক দফা বাস্তুচ্যুতির ঢেউ শুরু হয়েছে। পুরো উপত্যকা এখন বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর জোন।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, ফিলিস্তিনিরা অবর্ণনীয় দৈন্যদশা ও আতঙ্কের মধ্যে বাস করছেন। জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গাজায় ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ড’ সংঘটিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এক দিনে তারা গাজার ২৫০-এর বেশি লক্ষ্যে হামলা চালিয়েছে।
খান ইউনিসের বাসিন্দা ষাট বছরের খলিল আহমেদ আবু সুলেইমান বুধবার বলেন, শহরের পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। গত রাতে তারা ঘুমাতে পারেননি। কোথায় যাবেন, জানেন না। ৫৫ দিন ধরে তারা বাস্তুচ্যুত। হতাশার সুরে তিনি বলেন, এখন তিনি খান ইউনিসেই মরবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গাজার কোথাও নিরাপদ স্থান নেই।

কাতারের দোহা ইনস্টিটিউটের গণমাধ্যম বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি আলজাজিরাকে বলেন, গাজায় হামলার পেছনে ইসরায়েলের উদ্দেশ্য বুঝতে ‘রহস্যময় বিশ্লেষণের’ দরকার পড়ে না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালেন্ট যুদ্ধ শুরুর আগে বলেছিলেন, তারা গাজাকে ধ্বংসের দ্বীপে পরিণত করবেন; সবকিছু মুছে দেবেন। আগে থেকেই তাদের গণহত্যার মনোবাসনা ছিল। এখন যখন বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্যে পরিণত করা হচ্ছে, তখন বিষয়টি আরও প্রতীয়মান হলো।

হামাসের হাতে জিম্মিদের উদ্ধারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর চাপ বাড়ছে। মঙ্গলবার জিম্মিদের বেশ কয়েক স্বজন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তারা জিম্মি উদ্ধারে নেওয়া তাঁর পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। কেউ কেউ তাঁর পদত্যাগও দাবি করেছেন। পরে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানায়, জিম্মিদের মুক্ত করা তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আরো

© All rights reserved © 2023-2024 dailybengalgazette

Developer Design Host BD