মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১১:২৬ পূর্বাহ্ন

জামিন পাননি সেই উপ-কর কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৩ ১:৩৮ pm
হাইকোর্ট। ফাইল ছবি

রাজশাহীতে ‘ঘুষ’-এর ১০ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার উপ-কর কমিশনার মহিবুল ইসলাম ভুঁইয়ার জামিন দেননি আপিল বিভাগ। সোমবার (১৪ আগস্ট) এ আদেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে গত ৫ এপ্রিল ‘ঘুষের টাকাসহ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে গ্রেফতার উপ-কর কমিশনার মহিবুল ইসলাম ভুঁইয়ার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। ওই সময় তাকে রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতে তোলা হয়েছিল। শুনানি শেষে বিচারক আশিকুজ্জামান তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মহিবুল ইসলাম ভুঁইয়া রাজশাহী কর অঞ্চলের সার্কেল-১৩-এর উপ-কর কমিশনার। গত ৪ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে দুদকের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মনিরুজ্জামান ওই সময় জানিয়েছিলেন, উপ-কর কমিশনার মহিবুল ইসলাম ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে মামলা করার পর তাকে সরাসরি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। বুধবার বেলা ১১টার দিকে তাকে রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতে তোলা হয়। শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা গেছে, ১০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে দুদকের সমন্বিত রাজশাহী জেলা কর্যালয় ও বিভাগীয় কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সাদাপোশাকে তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মহিবুল ইসলাম চিৎকার করলে দুদক কর্মকর্তারা তার কার্যালয়ের দরজা বন্ধ করে দেন। তখন কর ভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দুদক কর্মকর্তাদের ওপরে হামলা চালান।

দুদক কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এ সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এতে তাদের চার-পাঁচজন কর্মকর্তা আহত হন। এতে মহিবুল ইসলাম ভুঁইয়াও আহত হন। তবে মহিবুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, তাকে দুদক কর্মকর্তারা মারধর করেছেন। তার টেবিলে রাখা টাকা তিনি ছুঁয়েও দেখেননি। কিন্তু দুদক কর্মকর্তারা তার ড্রয়ার থেকে টাকাগুলো উদ্ধার করেছেন।

প্রসঙ্গত: দুদক জানায় নগরের মাদারল্যান্ড ইনফার্টিলিটি সেন্টার ও হাসপাতালের মালিক ফাতেমা সিদ্দিকার পাঁচ বছরের ব্যাংকে লেনদেনের বিষয়ে ওই কর কমিশনার আপত্তি তোলেন। বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে গেলে ওই কর কমিশনার মহিবুল ইসলাম ভুঁইয়া তার কাছে ৬০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে তা ৫০ লাখ টাকায় দফা হয়। বিষয়টি জানিয়ে ফাতেমা সিদ্দিকা গত ২৯ মার্চ দুদকের প্রধান কার্যালয়ে একটি অভিযোগ করেন। এই অভিযোগ নিয়ে দুদক রাজশাহী জেলা ও বিভাগীয় কার্যালয়ে যৌথভাবে কাজ করে। ফাতেমা সিদ্দিকা তার ৫০ লাখ টাকা চুক্তির অংশ হিসেবে প্রথম কিস্তির ১০ লাখ টাকা দিতে গিয়েছিলেন। এ সময় দুদকের পক্ষ থেকে ওই কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়।

আরো

© All rights reserved © 2023-2024 dailybengalgazette

Developer Design Host BD