বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১১:৩৭ অপরাহ্ন

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: অর্থমন্ত্রী

ডেইলী বেঙ্গল গেজেট রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৪ ১১:৪৮ pm

রমজানে যেসব পণ্যের প্রয়োজন হয় দেশে সেগুলোর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। তারপরও কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার ( ২১ জানুয়ারি ) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহীদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আব্দুর রহমান, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সভায় ভোজ্যতেল, চিনি, খেঁজুরসহ আমদানিনির্ভর ভোগ্যপণ্যের শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য শিগগির জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চিঠি দেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ভোগ্যপণ্য আমদানিতে পর্যাপ্ত ডলার সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। ডলার নিশ্চিত করা না গেলে অন্যান্য মুদ্রায় আমদানির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে উৎপাদন ও আমদানি পর্যায় থেকে ভোক্তা পর্যন্ত যৌক্তিক পণ্যমূল্য নির্ধারণে বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা হবে।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী জানান, রমজান সামনে রেখে পণ্যের উৎপাদন, মজুত ও সরবরাহ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। পণ্যের যথেষ্ট মজুত রয়েছে। কোনো পণ্যে ঘাটতি না থাকায় চিন্তার কোনো কারণ নেই। কিছু মহল চেষ্টা করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দ্রব্যমূল্য বাড়াতে। সরকার এটিকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে। পণ্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে কাজ করছে সরকার। তবে দরকার হলে আরও কঠিন শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার এখনও পরিস্থিতি হয়নি।

তাহলে জরুরি বৈঠকের প্রয়োজন হলো কেন– এ প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর স্বাভাবিকভাবে সবাই বলছেন কী করছেন, কী করলেন? তাই সবাইকে নিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি জানতেই বৈঠক করা হয়েছে। চালের দাম বাড়ানোর পর সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে তাই ইতোমধ্যে দাম কিছুটা কমেছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। চালের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১ টাকা কমার বিষয়ে তিনি বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে।

জিনিসপত্রের দাম কত দিনের মধ্যে কমবে, এ প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, সেভাবে এটা কখনোই বলা সম্ভব না। আমদানিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে কিনা– এ প্রশ্নে তিনি বলেন, দরকার হলে আমদানি করতে হবে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানোর পদক্ষেপ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের মুদ্রায় লেনদেনের আলোচনাও চলছে। বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীরা খারাপ অবস্থায় থাকায় তাদের নিয়ে সরকারের ভাবনা কী– এ প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, এমন পরিস্থিতিতে প্রণোদনা দেওয়া ছাড়া অন্য কিছু করা যায় না। তবে বড় খাতগুলো এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আব্দুর রহমান বলেন, বৈঠক হলো– এটাই তো সদিচ্ছার প্রকাশ। বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার হচ্ছে নিত্যপণ্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা এবং এগুলো সহজলভ্য হওয়ার ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। বিভিন্ন কারসাজিতে কিছু কিছু জিনিসের দামের ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটেছে। এ জন্য কী করা যায়, সে ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে। তবে বাজারে কোনো নিত্যপণ্যের ঘাটতি নেই। কিছু মধ্যস্বত্বভোগী আছে, কিছু মতলববাজ আছে, তাদের তৈরি কৃত্রিম সংকটের কারণে আমরা মাঝে মাঝে বিপদে পড়ি। শিগগির আমরা এমন সব ব্যবস্থা নেব, যাতে সমস্যাগুলো দূর হবে।

১৫ বছর ধরেই শোনা যাচ্ছে বাজারে সিন্ডিকেট ও মজুতদার আছে, তাদের চিহ্নিত করতে পারেননি কেন– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পারিনি তা নয়। তবে পূর্ণাঙ্গ বের করার বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। সে ব্যাপারগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।

ব্যবস্থাগুলো কী– জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লাইসেন্স বাতিল করা হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ছাড়পত্র বাতিল করা হবে। নিত্যপণ্যের ঘাটতি নেই বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তার তথ্য-উপাত্ত জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব পরিসংখ্যান আছে। কৌশলগত (টেকনিক্যাল) কারণে তা প্রকাশ করতে চাই না।

চিহ্নিত করতে যদি না-ই পারলেন, তাহলে বুঝলেন কীভাবে যে মধ্যস্বত্বভোগী আছে– এ বিষয়ে আব্দুর রহমান বলেন, অনুমান করা এক জিনিস, সন্দেহ করা এক জিনিস, সন্দেহের তালিকায় রাখা এক জিনিস এবং সুস্পষ্ট চিহ্নিত করা আরেক জিনিস। সুস্পষ্টকরণ সম্পন্ন হলেই কাউকে চিহ্নিত করা যাবে। একটু ধৈর্য ধরতে হবে।

ডলার সংকট থাকায় নির্বিঘ্নে ঋণপত্র (এলসি) খোলা যাবে কিনা– অর্থমন্ত্রী এ প্রশ্নের জবাব দিতে বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে রমজানের পণ্যগুলো যদি দেখেন, সেই আটটি পণ্যের ক্ষেত্রে আগের বছরের জুলাই-জানুয়ারির তুলনায় এবার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি এলসি খোলা হয়েছে। ফলে এলসি খোলার সমস্যার কথা ঠিক নয়। পণ্যগুলো সময় মতো দেশে এসে পৌঁছবে বলে আশা করছি। মধ্যস্বত্বভোগীরা কোনো সমস্যা না করলে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেওয়া হয়েছে এলসি খোলার ব্যাপারে সহায়তা করতে। এলসি যদি খোলাই হয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাহলে চিঠি দিল কেন– এমন প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সব সময়ই চিঠি লেখে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।

আরো

© All rights reserved © 2023-2024 dailybengalgazette

Developer Design Host BD