শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ০৮:০২ অপরাহ্ন

ফিনল্যান্ডে হচ্ছে বিশ্বের পরমাণু বর্জ্যের একমাত্র চূড়ান্ত গুদাম

ডেইলী বেঙ্গল গেজেট রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৩ ৩:১১ pm

ঝুঁকির কথা জেনেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ পরমাণু শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই তেজস্ক্রিয় বস্তুর বর্জ্য ফেলার জন্য স্থায়ী জায়গা পাওয়া কঠিন। কেননা এর বর্জ্য যেখানে ফেলা হবে সেখানের পরিবেশ দূষিত হবে। তাই এর বর্জ্য যেখানে সেখানে ফেলা যায় না। বিশ্বজুড়ে প্রায় আড়াই লাখ টন অতি তেজস্ক্রিয় পরমাণু বর্জ্য মজুত রয়েছে।

এই বর্জ্য ফেলতে স্থায়ী জায়গা প্রয়োজন। কিন্তু কোনো দেশই স্থায়ী কোনো জায়গা পাচ্ছে না বর্জ্য ফেলার। তবে এবার এর স্থায়ী সমাধান মিলেছে। বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে ফিনল্যান্ড সেই তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ফেলার জন্য স্থায়ী গুদাম তৈরি করতে যাচ্ছে। যেখানে এই তেজস্ক্রিয় পদার্থ রাখলে পরিবেশ দূষিত হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটবে না। খবর ডয়েচে ভেলে

দেশটির রাজধানী হেলসিংকি থেকে গাড়িতে মাত্র তিন ঘণ্টার দূরত্বে এউরাইয়োকি এলাকায় এক পরমাণু বিদ্যুত কেন্দ্রের পাশেই সেই স্থাপনা গড়ার কাজ চলছে। যার নাম ‘ওকালো’, ফিনিশ ভাষায় যার অর্থ গুহা। খনির প্রায় ৪৩০ মিটার গভীরে মাটির নীচে বর্জ্য রাখা হবে।

বিশেষ ভূতাত্ত্বিক গঠনের কারণেই এ জায়গাটিকে বেছে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার প্রধান ভূতত্ত্ববিদ আন্টি ইয়ুস্টেন। জায়গাটির বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে তিনি বলেন, পাথুরে এই জমি প্রায় ২০০ কোটি বছর পুরানো। প্রায় কোনো ফাটল নেই এবং অত্যন্ত শুকনা। এখানে ভূগর্ভস্থ পানির সঞ্চালনও খুবই কম।

এউরাইয়োকি পৌর কর্তৃপক্ষ পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বর্জ্যের চূড়ান্ত গুদামের মালিক কোম্পানির কাছ থেকে প্রতি বছর ভূমি কর বাবদ প্রায় দুই কোটি ইউরো পেয়ে থাকেন। যেখানে মাত্র কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। তারপরও সেখানে নিজস্ব স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, লাইব্রেরি ও বেশ কয়েকটি ক্রীড়া কেন্দ্র রয়েছে। ৯০ লাখ ইউরো মূল্যের আরো একটি ক্রীড়াকেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে।

জানা যায়, পরমাণু বর্জ্যের এ গুদাম প্রায় ১০০ বছর ধরে ধাপে ধাপে ভরে তোলা হবে। ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত সেটি সম্প্রসারণের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। তারপর চিরকালের জন্য সেটি সিল করে দেয়া হবে।

প্রধান ভূতত্ত্ববিদ আন্টি ইয়ুস্টেনের কাছে প্রশ্ন রাখা হয় ইউরোপের অন্যান্য দেশ নিজেদের এলাকায় অতি তেজস্ক্রিয় পরমাণু বর্জ্যের চূড়ান্ত গুদাম গড়ে তোলার বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দেখা যায় কিন্তু এউরাইয়োকিকে সেটা ঘটছে না কেন? উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের যে পরমাণু বর্জ্যের কোনো ব্যবস্থা করতে হবে, সে বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই সমস্যা ফেলে রাখতে চাই না।

এমন মনোভাব নিয়ে ফিনল্যান্ডই বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে অতি তেজস্ক্রিয় পরমাণু বর্জ্য স্থায়ীভাবে মজুত রাখার উদ্যোগ নিচ্ছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলাদেশ ৩৩তম সদস্য হিসেবে বিশ্বের পরমাণু ক্লাবে যোগ দিয়েছে।

আরো

© All rights reserved © 2023-2024 dailybengalgazette

Developer Design Host BD