বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১১:৪৬ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের সার্কুলার পোশাক শিল্পের উন্মোচন: প্রথমেই রয়েছে সহযোগিতামূলক কৌশল এবং উদ্ভাবন

ডেইলী বেঙ্গল গেজেট রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ৯:১৯ pm

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ, বাংলাদেশ তার শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে সার্কুলারিটি মডেলে রূপান্তরের যাত্রা শুরু করার জন্য প্রস্তুত করছে। বর্তমানে ’সার্কুলারিটি’ বাংলাদেশে পরিবেশগত প্রভাব হ্রাস, অর্থনৈতিক কর্মদক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক সুবিধা তৈরি প্রভৃতি ক্ষেত্রগুলোতে উল্লেখযোগ্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে সার্কুলারিটি গ্রহণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও আছে, যেগুলো সম্মিলিতভাবে বিবেচনা করা এবং সমাধান করা আবশ্যক।

এ বিষয়টি সমাধানের জন্য ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ঢাকার আমারি হোটেলে শিল্প নেতৃবৃন্দ, নীতিনির্ধারক এবং সার্কুলার অর্থনীতির বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল “আপস্ট্রিম সার্কুলারিটি ডায়ালগ: বাংলাদেশে প্রাক-ভোক্তা টেক্সটাইল বর্জ্য’ শীর্ষক এক সংলাপে বসেন। সংলাপের মূল বিষয়গুলো ছিলো বাংলাদেশে একটি সমৃদ্ধ সার্কুলার ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় কৌশল, নীতি, অবকাঠামো, সহযোগিতা এবং উদ্ভাবনী পন্থা গ্রহণ করা ইত্যাদি ।

এই ইভেন্টটি ’সুইচ টু সার্কুলার ইকোনমি ভ্যালু চেইনস প্রজেক্ট’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে আয়োজন করা হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে ইউরোপিয় ইউনিয়ন এবং ফিনল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে ইউনিডো এর নেতৃত্বে চ্যাথাম হাউজ, সার্কল ইকোনমি, ইউরোপিয়ান ইনভেষ্টমেন্ট ব্যাংক এবং গ্লোবাল ভ্যালু চেইনের সার্কুলারিটি সমর্থনকারীদের সহযোগিতায় প্রকল্পটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ইভেন্টে ব্র্যান্ড, প্রস্তুতকারক, নীতিনির্ধারক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন গ্রুপে অংশ নেন। উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ দূত, সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশে ইউরোপিয় ইউনিয়নের ডেপুটি হেড অব মিশন, বার্নড্ স্পেইনার, ইউনিডো’তে সুইচ টু সার্কুলার ইকোনমি ভ্যালু চেইনস প্রজেক্ট এর চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর, মার্ক ড্রেক এবং গ্লোবাল ফ্যাশন এজেন্ডার ইমপ্যাক্ট প্রোগ্রামস অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি এর ডিরেক্টর, হলি সিরেট ইভেন্টের উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশগ্রহন করেন। এছাড়াও সার্কেল ইকোনমি এর গ্লোবাল ভ্যালু চেইনের প্রধান হিলডে ভ্যান ডুইজএন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেন এবং সার্কুলার গেম উপস্থাপন করেন।

ইভেন্টে দুটি প্যানেল আলোচনা করে। উভয় প্যানেলের আলোচনার কেন্দ্রে ছিলো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ন ও জটিল ইস্যু, যেমন – বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রস্তুতকারকদের সার্কুলার ইকোসিস্টেমে সক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য ব্যবসায়িক মডেল ও প্রণোদনা, দেশে মূল্য ধরে রাখার জন্য টেক্সটাইল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার মানদন্ড এবং সমগ্র প্রক্রিয়ায় কিভাবে বর্তমান ব্যবসায়ীদেরকে সম্পৃক্ত করে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা যায় প্রভৃতি। সংলাপে বেস্টসেলার এর মুখ্য ভূমিকা পালন এবং সার্কুলারিটি ও পূনর্ব্যবহৃত উপকরণ গ্রহনে প্রস্তুতকারকদের সাথে বেস্টসেলার এর সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এর সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, “আমরা এখন এমন একটি বিশ্বে বাস করছি, যেখানে জলবায়ু সবচেয়ে বেশি হুমকির সম্মুখীন, স্বাভাবিকভাবেই পরিবেশের মূল্যে ব্যবসা এখন আর কোনো বিকল্প নয়। শূন্য কার্বন নির্গমন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের দৌড়ে সার্কুলারিটি ‘পরবর্তী স্বাভাবিক’ (ধারণা) হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে, যা ব্যবসা এবং টেকসই উন্নয়নকে সংযুক্ত করেছে। বিজিএমইএ এর জন্য, সার্কুলারিটি আমাদের মূল্যবোধ, লক্ষ্য এবং রূপকল্পের কেন্দ্রবিন্দু। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, বৃহত্তর সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূল্যবোধ তৈরি করার সাথে সাথে একটি রৈখিক (লিনিয়ার) থেকে সার্কুলার সিস্টেমে অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র (ইকো-সিস্টেম) সংরক্ষণে সহায়তা করা।”

বেষ্টসেলার এর সিনিয়র প্রজেক্ট স্পেশালিস্ট, আলেকজান্ডার গ্রানবার্গ বলেন “এই মুহুর্তে, সবাই একটি সার্কুলার অর্থনীতিতে যাওয়ার জন্য নতুন ব্যবসায়িক অনুশীলনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছে। দীর্ঘদিনের অনেক ব্যবসায়িক অংশীদারসহ বাংলাদেশ হচ্ছে বেস্টসেলারের জন্য একটি প্রধান সোর্সিং দেশ, আর এ কারণেই বর্জ্য পৃথকীকরণের ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ সুস্পষ্টভাবে সূচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে। আমাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে আমরা জানি যে সমগ্র শিল্পের জন্য কার্যকর এবং উপকারী সমাধানগুলো খুঁজে পাওয়ার জন্য সকল মূল স্টেকহোল্ডারদের একত্রিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। এই উল্লেখযোগ্য প্রকল্পটি তার সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক কেইসগুলোর মাধ্যমে নিশ্চিত করতে পারে যে আমাদের অংশীদারেরা এই পরিবর্তনের সময় অনুপ্রাণিত থাকবেন।”

গ্লোবাল ফ্যাশন এজেন্ডা এর সিইও ফেদেরিকা মার্চিয়ননি বলেছেন, “একটি সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তরের জন্য পৃথক এজেন্ট বা কোম্পানির সামর্থের বাইরে সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন রয়েছে। তাই, খ্যাতনামা সংস্থাগুলোর একটি গ্রুপের মধ্যে এই মাল্টিস্টেকহোল্ডার অংশীদারিত্বের সমন্বয় করতে পেরে আমরা সম্মানিত বোধ করছি। সত্যিকারের সার্কুলারিটি শুধুমাত্র উৎপাদন অঞ্চলে সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহনের মাধ্যমেই অর্জন করা যেতে পারে এবং এই অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ন বার্তাটি হলো, বাংলাদেশ বিশ্বে পূনর্ব্যবহৃত পণ্য উৎপাদনে (রিসাইক্লিং) নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত, যদি দেশটি শিল্পোত্তর বর্জ্যরে সকল সম্ভাবনাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারে। বিশ্বব্যাপী পূণব্যবহৃত পণ্যের জন্য ব্র্যান্ডের চাহিদা বৃদ্ধি এবং আইন বাস্তবায়িত হওয়ার সাথে সাথে আমি আত্মবিশ্বাসী যে বাংলাদেশ এই সুযোগটি ত্বরান্বিত করতে একটি ইকোসিস্টেম তৈরি করতে পারে।”

রিভার্স রিসোর্সেস এর চিফ প্রোগ্রাম অফিসার- সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিন ক্যাসল বলেন, “অভ্যন্তরীণভাবে রিসাইক্লিং সক্ষমতা বৃদ্ধি বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এই সম্প্রসারণটি শিল্পকে পূনর্ব্যবহৃত পণ্যগুলোর ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করতে, ফাইবার আমদানির উপর নির্ভরতা হ্রাস এবং পরিবেশগত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সহায়তা করবে।”

চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর, মার্ক ড্রেক বলেন, “ইউরোপিয় ইউনিয়ন এবং ফিনল্যান্ড সরকারের সহায়তায় ইউনিডো বিশ্বব্যাপী ‘সুইচ টু সার্কুলার ইকোনমি ভ্যালু চেইনস প্রজেক্ট’ এর নেতৃত্ব দেয়। বাংলাদেশে আমরা বৈশ্বিক এবং স্থানীয় শিল্প নেতৃবৃন্দ, যেমন বেস্টসেলার, এইচএন্ডএম এবং তাদের প্রস্তুতকারকদের সাথে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় উদ্ভাবনী সার্কুলার সমাধান পাইলটিং করে টেক্সটাইল এবং পোশাক শিল্পের জন্য সার্কুলার ট্রানজিশনকে সহযোগিতা করছি। এই পাইলটগুলো নতুন প্রযুক্তি, ব্যবসায়িক মডেল এবং পথরেখা (ট্রেসেবিলিটি) নিয়ে তীব্র্র চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে এবং সার্কুলার পদ্ধতির অর্থনৈতিক সুযোগ তুলে ধরবে । প্রকল্পটি নীতি এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ সক্ষমতা তৈরির মাধ্যমে সার্কুলারিটির জন্য একটি সক্ষম পরিবেশ তৈরি করতে সরকারী অংশীদার, একাডেমিয়া এবং এনজিওগুলোর সাথেও সহযোগিতা করছে।”

আরো

© All rights reserved © 2023-2024 dailybengalgazette

Developer Design Host BD