শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ০৭:০০ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ সীমান্তে কেন মৌমাছির চাক বসাচ্ছে বিএসএফ

ডেইলী বেঙ্গল গেজেট রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৩ ১০:০৭ pm

বাংলাদেশ সীমান্তজুড়ে মৌমাছির চাক বসাচ্ছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। অনুপ্রবেশ, মানব পাচার, গরু পাচারসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ঠেকানোর পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম।

আরটির প্রতিবেদন মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে মৌমাছির চাক বসাচ্ছে বিএসএফ। ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সবচেয়ে বেশি কালোবাজারি বা গরু পাচার হয় পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে।

আর তাই গরু পাচার রুখতে এ রাজ্যের সীমান্তে নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর কাঁটাতারের বেড়ায় মৌমাছির চাক বসানো হচ্ছে। মৌচাক বসানোর এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বিএসএফেরে ৩২তম ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশনায় ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজ’ প্রোগ্রামের আওতায় সীমান্তবর্তী এলাকায় মৌমাছি পালন এবং মিশন মধু পরীক্ষাকে একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে নিয়েছে ভারত সরকার। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর অর্থনৈতিক বিকাশ ও সার্বিক উন্নয়নে এই প্রকল্পকে কৌশলগতভাবে ব্যবহারের সুযোগ হিসেবে দেখছে বিএসএফ।

এই প্রকল্পের আওতায় সীমান্তের বেড়ার কাছে কৌশলগতভাবে মৌমাছির বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। সীমান্তের বেড়ার কাছে মৌমাছির বাক্সগুলো রাখা হয়েছে। বাক্সগুলো কাছাকাছি স্থাপন করা হয়েছে মৌমাছি-বান্ধব ফল ও ফুলের গাছ। এতে একদিকে মৌমাছিদের আকর্ষণের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে অন্যদিকে বাক্সগুলো পাবে প্রাকৃতিক ছায়া।

বিএসএফের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কাঁটাতারের পাশেই এমন উদ্যোগ সীমান্ত টপকে ঢুকে পড়া অনুপ্রবেশকারী ও চোরাচালানকারীদের জন্য প্রাকৃতিকভাবে হুমকি তৈরি করবে। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করলে মৌমাছির ঝাঁকের আক্রমণে যে কেউ গুরুতরভাবে আহত হতে পারে।

বিভিন্ন অপরাধ দমনের পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এ প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সোমবার (৬ নভেম্বর) এক প্রেস বিবৃতিতে বিএসএফ জানায়, ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্ত অঞ্চলটি উভয় পাড়ের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য ও ঘন বনাঞ্চলের জন্য পরিচিত। এর পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকরা নিবিড়ভাবে কৃষিকাজে নিযুক্ত রয়েছে। যা সারাবছর মৌমাছির জন্য খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করবে ভাইব্রেন্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম।

গ্রামবাসীদের মধ্যে সরিষা চাষ ও বিভিন্ন ফুল গাছের চারা রোপণে উৎসাহিত করা হয়েছে, যা মৌমাছির খাদ্য সরবরাহে আরও সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পের সাফল্য নিশ্চিত করতে গ্রামবাসীকে মৌমাছি পালন ও মধুর উপকারিতা এবং তাদের কর্মসংস্থা ও আর্থিক নিশ্চয়তার সম্ভাবনা সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেয়া হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ’-র এই উন্নয়ন উদ্যোগের প্রশংসা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

আরো

© All rights reserved © 2023-2024 dailybengalgazette

Developer Design Host BD