মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন

ভোজ্যতেল আমদানি কমাতে জলপাই চাষ করছে পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ১:৩৩ pm

কোনোভাবেই ডলার সংকট কাটিয়ে উঠতে পারছে না পাকিস্তান। এই অবস্থায় মার্কিন মুদ্রা সাশ্রয়ে ভোজ্যতেলের আমদানি খরচ কমানোর চেষ্টা করছে তারা। সেই লক্ষ্যে জলপাই চাঁষে ঝুঁকছে দেশটি। ইতোমধ্যে ১৫ লাখেরও বেশি গাছ রোপণ করেছে পাকিস্তান।

 

দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এতে বলা হয়, বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে আমদানির ওপর নির্ভরতা কাটানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান। তাই অভ্যন্তরে ভোজ্যতেলের উৎপাদন বাড়ানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে দেশটি। সেই উদ্দেশ্যে জলপাই চাষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে পাক সরকার।

 

২০২১-২০২২ অর্থবছরে বাণিজ্যিকভাবে জলপাই চাষ, ধাপ–২’ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করেছে পাকিস্তান। ২০২৪ সাল পর্যন্ত তা চলবে।

 

প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ওয়াকাস চিমা বলেন, জলপাই চাষ এবং তা থেকে তেল উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়াতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের মোট ৭৫ হাজার একর জমিতে চারা বপন করা হবে।

 

তিনি বলেন, অর্থায়নে ঘাটতি রয়েছে। তবু জলপাই চাষের জন্য ১১ হাজার একর জমি কিনেছি আমরা। এরই মধ্যে এক জরিপে দেখা গেছে, দেশে প্রায় ৫০ লাখ বুনো জলপাই গাছ রয়েছে। একে অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত করতে কাজ করছে সরকার।

 

প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেন, অনেক এলাকায় পানির অভাব রয়েছে। সেসব জায়গায় জলপাই চাষের জন্য গভীর সেচ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ৪৭ কর্মসূচির আওতায় কমপক্ষে ২ হাজার ৮০০ জনকে প্রশিক্ষণ  দিচ্ছে সরকার। জলপাই চাষ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তারা।

 

জাতীয় প্রকল্প পরিচালক ড. হাসান তারিক বলেন, পাকিস্তানে ৮ হাজার ৯০০ একর জমিতে জলপাই চাষ করা হবে। পাশাপাশি গিলগিত বালতিস্তান ও আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরসহ চার প্রদেশে বুনো জলপাইয়ের ২০ লাখ কলম তৈরি করা হবে।

 

বরনি কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালক আজিম তারিক বলেন, এই প্রকল্পের জন্য সেরা মানের জলপাই ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ করছে সরকার। সেই সঙ্গে তেল নিষ্কাষণযন্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী স্টোরেজ, ফিলিং ও টেস্টিং উপকরণসামগ্রীও সরবরাহ করা হচ্ছে।

 

গত জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ১২০ কোটি ডলার সহায়তা পেয়েছে পাকিস্তান। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও তা পেয়েছে দেশটি। তবু সংকট কাটছে না।

 

মূলত, বিদেশি ঋণ পরিশোধ এবং আমদানি ব্যয় মেটাতে গিয়ে পাকিস্তানের রিজার্ভ কমতে কমতে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ হিসাবে, বিদেশি মুদ্রার সঞ্চায় ৭৬৪ কোটি ডলারে নেমেছে। এ দিয়ে মাত্র ১ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে।

আরো

© All rights reserved © 2023-2024 dailybengalgazette

Developer Design Host BD