রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন

ভোটের পরিস্থিতি নয়, নির্বাচনী সহিংসতাসহ যেসব বিষয় পর্যবেক্ষণে আসতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

ডেইলী বেঙ্গল গেজেট রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৩ ৪:২৬ pm

ভোটের পরিস্থিতি নয়, নির্বাচনী সহিংসতা পর্যবেক্ষণে আসতে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। নির্বাচন কমিশনে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এমনটিই জানিয়েছেন গেলো অক্টোবরে বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া মার্কিন প্রতিনিধি দল। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে আসলে তাদের প্রতিবেদনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। কমনওয়েলথসহ অন্য দেশের পর্যবেক্ষকদের মূল্যায়নের পরামর্শ তাদের।

বাংলাদেশের নির্বাচন ঘিরে ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের দৌড়ঝাপ ও নানা হস্তক্ষেপমূলক আচরণ নিয়ে আছে আলোচনা-সমালোচনা। আবার, মার্কিনদের দোসর হিসেবে কাজ করছে মার্কিন সংস্থা ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর ডেমোক্রিসির (এনইডি) সমর্থনপুষ্ট সিজিএসসহ কিছু এনজিও। এনইডি বিশ্বজুড়ে পরিচিত দ্বিতীয় সিআইএ হিসেবে।

গত ৮ থেকে ১১ অক্টোবর বাংলাদেশ সফর করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল। ৪ দিনের অবস্থানকালে নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে দেখা করে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রতিষ্ঠান এনডিআই ও আইআরআই এর প্রতিনিধিরা। ১৫ অক্টোবর সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ৫টি সুপারিশ প্রদান করে তারা। যেখানে বলে, জাতীয় নির্বাচনের সময় তারা পর্যবেক্ষক পাঠাবে কি না তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর জানাবে।

এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ২২ নভেম্বর ব্রিফিংয়ে বলেছেন, গেলো অক্টোবর থেকেই বাংলাদেশে সরকার বিরোধী সমাবেশ করতে তৎপর মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস।

একই দিন আইআরআই ও এনডিআই যৌথ বিবৃতিতে জানায়, বাংলা‌দে‌শের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কারিগরি দল পাঠা‌তে চায় দুই সংস্থা। তবে নির্বাচনে ফলাফল সংক্রান্ত বিষয় পর্যবেক্ষণে নয় বরং নির্বাচনের আগের, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার পরিস্থিতি মূল্যায়নে আসবে দলটি। ছয় থেকে আট সপ্তাহ অবস্থানকালে তারা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলের নিজেদের এবং একে অপরের সঙ্গে সহিংসতা, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি সহিংসতা, অনলাইনে হেনস্থার বিষয়গুলো এবং সেসব দমনে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর ভূমিকা পর্যবেক্ষণ করবে দলটি।

নির্বাচন ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকাসহ সারাদেশেই সহিংসতায় জড়িয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। নির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়ে পুলিশের উপর হামলাসহ বহু স্থাপনা ভাংচুর ও যানবাহনে আগুন দিয়েছে তারা। ফাইল ছবি

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন সহিংসতা হবেই এমন নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে আসছে মার্কিন পর্যবেক্ষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রেও নানা দুর্বলতা আছে।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ওয়ালিউর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ২৬-৩০ শতাংশ মানুষ ভোট দেয়। আমাদের এখানে ৮০ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক অঞ্চলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে যায়। বাংলাদেশে এক আসন থেকে ১০০ এর বেশি প্রার্থী রয়েছে।

এমন অবস্থায় মার্কিন পর্যবেক্ষকদের ভুল ভাঙাতে রাজনীতিবিদদের উদ্যোগ নিতে হবে বলেই মত দেন এই কূটনৈতিক বিশ্লেষক। মনে করেন, কেবল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনের দিকে মুখিয়ে থাকা উচিত হবে না। কমনওয়েলথসহ যে ১২-১৪টা পর্যবেক্ষক সংস্থা আসবে তাদের প্রতিবেদনকেও মূল্য দিতে হবে।

আর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলছেন, বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের সবক দিয়ে বেড়ানো যুক্তরাষ্ট্রে বিলিওনিয়ার না হলে আইন প্রণেতা হওয়া যায় না। তবে বাংলাদেশর রাজনৈতিকদলগুলোর দূরত্বের কারণে মার্কিনরা নাক গলানোর সুযোগ পায় বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা এগিয়ে নেবে দেশের জনগণ। বিদেশি প্রেসক্রিপশন কাজে আসবে না।

আরো

© All rights reserved © 2023-2024 dailybengalgazette

Developer Design Host BD