বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন

মাত্র ২৩ বছর বয়সেই সফল উদ্যোক্তা সাজিদুর

আমিনা জাহান
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৬ জুন, ২০২৪ ১০:৪৫ pm

 

ছাত্রজীবনের যে সময়ে বইপত্র কাঁধে বহন করে পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যস্ত তরুণরা, ঠিক এমন সময়ে মাত্র ২৩ বছর বয়সেই ব্যবসায় সফল হয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা মো সাজিদুর রহমান। তিনি জার্সি ক্যানভাসের প্রতিষ্ঠাতা। প্রথমে ফেসবুক পেজে নিজের ডিজাইন করা জার্সি বিক্রি করতেন, এরপর নিজের আউটলেট খুলে জার্সি বিক্রির কাজ শুরু করেন তিনি। এখন মাসে এক থেকে দেড় লক্ষ টাকার পণ্য বিক্রি করেন।

সাজিদুর জানান, সে রাজশাহীর ছেলে হলেও বাবার চাকরি সূত্রে তার ছোটবেলা কেটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। ২০১৮ সালে  হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করার পর উচ্চমাধ্যমিক পড়ার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে তিনি রাজশাহীতে আসেন। ২০২০ সালে উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে ২০২২ সালে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে জার্নালিজম, কমিউনিকেশন এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি হন। তিনি উচ্চমাধ্যমিকে পড়াকালীন সৃজনশীল কিছু করার তাড়না অনুভব করেন। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির পর উদ্যোক্তণ বা ব্যবসায়ী হিসেবে কিছু করার ধারণা তার মাথায় জেঁকে বসে।

দিনে পড়াশোনার পাশাপাশি, রাত জেগে জার্সির ডিজাইন এবং বিক্রির কাজ করতেন সাজিদুর। ক্লাইন্টরা জার্সি দেখতে চাইলে কিংবা জার্সি ডেলিভারি করতে গেলে ঠিকানা নিয়ে খুবই সংকটে পড়তে হতো। তখন সাজিদূরের বন্ধু তাকে একটি আউটলেট খোলার পরামর্শ দিলে সাজিদুর বাসার রোড পুকুরপাড়ের সামনে জার্সি ক্যানভাসের আউটলেট খোলেন। যেখানে রয়েছে তার ডিজাইন করা বিভিন্নরকম জার্সি। এছাড়াও গ্রাফিক ডিজাইনিং এর সাহায্যে কাস্টমাইজ করে ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী জার্সি বানিয়ে দেন তিনি।

সাজিদুর জানান, ‘আমি ফুটবলপ্রেমী। ২০১৯ সালে আমাদের কলেজের ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলতে যেয়ে এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে আমরা টিমের জার্সি বানাই। যে জার্সিগুলোতে অনেক ভুল ছিল। তারপর আমরা যোগাযোগ করলে তারা আমাদেরকে জার্সি পরিবর্তন করে দেয় না। তখন থেকেই আমার মাথায় ছিল যে আমি যদি কখনো জার্সি বানাতে পারি তাহলে অবশ্যই কাজটি দায়বদ্ধতার সাথে করবো।’

সাজিদুরের স্কুলে প্রতিবছর প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ফুটবল টুর্নামেন্ট হয়। ২০২২ সালে তিনি প্রথমবারের মতন নিজের টিমের জার্সি নিজে ডিজাইন করেন। এরপর পরিচিত ছোট বড় সকলেই তার কাছ থেকে জার্সি বানানো শুরু করে। সেখান থেকে শুরু হয় জার্সি ক্যানভাসের যাত্রা। ফেসবুকে তার বিনোদনধর্মী পেজ সাদা ক্যানভাস যেখানে রয়েছে এক লক্ষ ফলোয়ার সেই পেজের সাথে নাম মিলিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করেন’ জার্সি ক্যানভাস।

৪-৫ টি ফ্যাক্টরির কাপড় কোয়ালিটি, জার্সি বানানোর ধরন পরীক্ষা করার পর সবচেয়ে ভালো মানের বিনিয়োগকারীর কাজ থেকে সাজিদুর জার্সি বানান। তিনি ক্রেতাদের সবচেয়ে ভালো মানের পণ্য সরবরাহ করতে চান। কোন জার্সির নামে ভুল হলে তিনি সেটা সংশোধন করে পুনরায় বানিয়ে দেন। তিনি মনে করেন তার ব্যবহার এবং পণ্যের কোয়ালিটির জন্যই তার ক্রেতারা তার কাছেই জার্সি অর্ডার দেন।

জার্সি ক্যানভাসের একজন ক্রেতা আরিফ হোসেন জানান, ‘আমি জার্সি ক্যানভাস থেকে প্রায়ই জার্সি কিনি। সাজিদুর আমার পরিচিত হলেও জার্সি ক্যানভাস থেকে জার্সি কিনি কারণ এখানকার কাপড়ের কোয়ালিটি ও স্বল্প মূল্যের জন্য। বিশ্বাসযোগ্যতার পাশাপাশি সাজিদুরের ব্যবহার খুবই ভালো। এজন্য আশেপাশের সবাইকে উৎসাহিত করি এখান থেকে জার্সি কেনার জন্য।

সাজিদুর জানান, উদ্যোক্তা হওয়ার পথ চলায় শুধু যে সফলতা এসেছে এমন নয়,গত ঈদ উল ফেতরে ফ্যাক্টরির কিছু অনাকাঙ্খিত ভুলের কারণে অনেক বড় ক্ষতির মুখোমুখি হন। এতে তিনি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হন। তারপরেও নিজের দায়িত্ববোধ থেকে পিছপা হননি। বর্তমানে ধুমধামে চলছে কুরবানীর ঈদের জন্য প্রস্তুতি। সাধারণত ঈদের সময় কাজের চাপ একটু বেশি থাকে। সাজিদুর জার্সি ক্যানভাসের জন্য নিজস্ব ফ্যাক্টরি দিয়ে জার্সি উৎপাদন করতে চান। যেখানে তিনি সহজলভ্য মূল্যে শিক্ষার্থীদের জন্য জার্সি বিক্রি করতে পারবেন।

আরো

© All rights reserved © 2023-2024 dailybengalgazette

Developer Design Host BD