মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন

রহস্যে মোড়া সালাম মুর্শেদীর রাজনৈতিক উত্থান, নির্বাচনী এলাকায় নানা প্রশ্ন

ডেইলী বেঙ্গল গেজেট রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৩ ১:১৫ pm

সালাম মুর্শেদী সাবেক তারকা ফুটবলার। তিনি বিজিএমইএর সভাপতিও হয়েছিলেন। বর্তমানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। রাজনৈতিক দিক থেকেও পেয়েছেন উঁচু মই। ফুটবলার হিসেবে ব্যক্তিগতগতভাবে তার উত্থান নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও তার রাজনৈতিক উত্থান নিয়ে বেশ রহস্যই লুকিয়ে রয়েছে।

সম্প্রতি ফিফা বাফুফের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুললে তা গড়ায় আদালতে। বাফেুফের ফাইন্যান্স কমিটির প্রধান হিসেবেও তার ব্যর্থতার দায় দেখছেন অনেকেই। বিভিন্ন সময়েই রাজনৈতিক মতাদর্শ বদলে ফায়দা নেওয়ার অভিযোগ আছে সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে।

সূত্র জানায়, মোসাদ্দেক আলী ফালু ও তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হয়ে রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। বিএনপি নেতা কর্মীদের ছায়ায় ধীরে ধীরে বিস্তৃত করেন নিজের ক্ষমতার বলয়। দুই মেয়াদে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রীপুত্র তারেক রহমানের সঙ্গে পারিবারিকভাবে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। সেই সম্পর্কের সুবাধে বিভিন্ন ব্যাংকিং ঋণ ও ব্যবসায়িক সুবিধা হাসিলের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ক্ষমতার পালাবদল ঘটলে সালাম মুর্শেদী ২০০৮ সালের পর যুক্ত হন আওয়ামী লীগ ঘরানায়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে কিনে নেন দলেন মনোনয়ন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বরে যান আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য।

সূত্র আরো জানায়, খেলোয়াড়ী জীবন কিংবা পেশাগত জীবনে কখনো আওয়ামী লীগের অনুরাগী হিসেবে সালাম মুর্শেদীর নাম শোনা যায়নি। বরং খুলনার আড়ালে-আবডালে কান পাতলেই এখনো অনেকেই বলেন, সালাম মুর্শেদীর পরিবারের কেউ আওয়ামী লীগকে কখনো সমর্থন করেননি। আন্দোলন, সংগ্রাম আর বহু নির্যাতন সহ্যের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসা মোস্তফা রশিদী সুজা যখন প্রয়াত হলেন, তখন খুলনা-8 (রুপসা, তেরখাদা, দিঘলীয়া) আসনে তাঁর বিকল্প কোনো ত্যাগী নেতাকেই আশা করেছিলেন স্থানীয়রা। তাদের বিস্ময়ের ঘোর আজও কাটে না যে, কোন বিবেচনায় বেছে নেয়া হলো সালাম মুর্শেদীকে।

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য সালাম মুর্শেদীকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য পদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দলের কোন ত্যাগী নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে আওয়ামীলীগের নিষ্ঠাবান কর্মীরা একতাবদ্ধ হতেন। গত কয়েকবছরে তিনি বেশ কয়েকবার বিতর্কিত ও সমালোচিত হয়েছেন।

সূত্র জানায়, সালাম মুর্শেদী গুলশানের যে বাড়িতে বাস করছেন সেই প্লটটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই পরিত্যক্ত সম্পত্তি (প্লট) তিনি নানা কৌশলে দখল করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অবিযোগ রয়েছে জমি সংক্রান্ত নানা নথি তিনি নিজে বানিয়েছেন। এমনকি ওই প্লটটি প্রকৃতপক্ষে যে সড়কে অবস্থিত সেই সড়ক নম্বরও বদলে ফেলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যার ফলে গুলশান আবাসিক এলাকায় রাজউকের লে-আউট নক্সায় কথিত বাড়ির অস্তিত্ব নেই।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চিঠির প্রেক্ষিতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গঠিত তিন সদস্যের কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে এমন ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানায় সূত্র।

আরো জানা গেছে, ওই তদন্ত কমিটি প্লটটি অবিলম্বে সরকারের দখলে নিতে সুপারিশ করেছে। আদালতের নির্দেশে যা নিয়ে তদন্ত চলছে দুদকেও। আগামী নির্বাচনে নৈতিকভাবে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের সমর্থন পাবেন কিনা সে বিসয়ে শঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সর্বশেষ ইউনিয়ন এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলটির মনোনীত প্রার্থীকে রেখে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেন এমপি সালাম মুর্শেদী। এতে তৃণমূলে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। দলীয় নেতাদের বাদ দিয়ে তাঁর অনুসারীদের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন তিনি। নিয়োগ-বাণিজ্যেরও অভিযোগ রয়েছে তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

আরো

© All rights reserved © 2023-2024 dailybengalgazette

Developer Design Host BD