মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ০৩:০০ পূর্বাহ্ন

রাস্তায় মৃত হাতি, মালিকানা স্বীকার করছে না কেউ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৩ ১২:০১ am

বগুড়া সদর উপজেলার নামুজা ইউনিয়নের বগারপাড়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শোলাগাড়ী মোড়ে একটি মৃত মাদি হাতি পাওয়া গেছে। হাতির পা শিকল দিয়ে রাস্তার পাশে গাছে বাঁধা ছিল। হাতিটির রোগাক্রান্ত ও গায়ে ঘা থাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল।

 

সোমবার (১৪ আগস্ট) রাতে কে বা কারা হাতিটি ফেলে যায়। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত কেউ হাতিটির মালিকানা স্বীকার করেনি। সদর থানা পুলিশ ও রাজশাহী থেকে আসা বন বিভাগের কর্মকর্তারা সৎকারের পরিকল্পনা করছেন।

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোগাক্রান্ত হাতিটির শরীর থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। প্রাণীটির পা রাস্তার পাশের গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বাঁধা ছিল। খবর পেয়ে সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদ হোসেন আসেন। তিনি বিষয়টি বন বিভাগকে অবহিত করেন। ধারনা করা হচ্ছে, মারা যাওয়ার পর হাতিটিকে ট্রাক থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

 

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, বান্দরবানের আত্মীয় আজগরের কাছ থেকে হাতিটি ভাড়া নিয়েছিলেন নামুজা ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য রাকিবুল ইসলাম রানা। বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার এনামুল হক নামে এক মাউথের মাধ্যমে তিনি হাতিটিকে বিভিন্ন সার্কাসে ভাড়া দিয়ে থাকেন। সার্কাস বন্ধ থাকলে এ হাতি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি করতেন।

 

জানা গেছে, সর্বশেষ কুষ্টিয়ায় এক সার্কাসে হাতিটিকে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। সার্কাস শেষে মাউথ এনামুল সোমবার হাতিটিকে ট্রাকে তুলে বগুড়ার দিকে রওনা দেন। রাস্তায় অসুস্থ হয়ে হাতিটি মারা যায়। এরপর হাতিটিকে রানার বাড়িতে আনা হয়। কিন্তু রানা হাতির দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান। শোলাগাড়ী এলাকায় এসে মাউথ এনামুল গাছের সঙ্গে হাতির পা বাধেন। এরপর ট্রাক চালিয়ে গেলে হাতিটি রাস্তায় পড়ে যায়।

 

এ বিষয়ে রাকিবুল ইসলাম রানা দাবি করেন, তিনি নন, এনামুল তার বান্দরবানের আত্মীয়ের কাছ থেকে হাতিটি ভাড়া নেন। হাতির মালিক তার আত্মীয় হলেও তিনি এর সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

 

ফোন বন্ধ থাকায় হাতির মাউথ এনামুলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহী থেকে আসা বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, একটা হাতি ১২৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। রাস্তার পাশে ফেলে দেওয়া মাদি হাতিটির বয়স ৮০ থেকে ৯০ বছর হবে। হাতিটির সংস্কারের ব্যাপারে পুলিশ ও এলাকাবাসীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। দ্রুত সৎকার না করলে এলাকায় রোগ জীবাণু ছড়াবে।

 

এ প্রতিবেদন লেখার সময় হাতিটির ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে গর্ত খুঁড়ে সৎকারের প্রস্তুতি চলছিল।

আরো

© All rights reserved © 2023-2024 dailybengalgazette

Developer Design Host BD